আপনি কি প্রাশান্তির খোঁজে ছুটছেন?

  • 2016-03-16_01.39.57

 

জিকির, বিশেষ করে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর মধ্যে যে এত অদ্ভুত এক অলৌকিকতা লুকিয়ে আছে, সেটা আগে কখনও এভাবে অনুভব করিনি।

আল্লাহ তার প্রশংসা শুনতে ভালবাসেন। আর তিনি সব থেকে বেশি অপছন্দ করেন যখন কেউ তার সাথে কাউকে শরিক করে। এজন্য তিনি যে এক ও অদ্বিতীয়, এই ঘোষণাটা মানুষ বার বার উচ্চারণ করে, আল্লাহ খুশি হয়ে যান। সুবহানআল্লাহ।
পৃথিবীর তাবত জঞ্জাল দূরে ঠেলে, ধ্যান মগ্ন মন যখন গভীর থেকে উচ্চারণ করে, “আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়” তখন আল্লাহ যেন তার সমস্ত প্রশান্তি ঢেলে দেন।

অদেখা, অজানা এক স্বত্বার সাথে এ এক বিস্ময়কর যোগাযোগ।

মানুষ সাধারণত যা কিছু চোখে দেখে, তার প্রতি অনুভূতি তৈরি হয় সহজে। কিন্তু আল্লাহ, যার অস্তিত্ব কেবল এক বিশ্বাসী মনের অনন্ত গভীরে প্রথিত আছে। যাকে ডাকতে হয়, যাকে অনুভব করতে সাধনা লাগে। এ এমন এক সাধনা, যা অন্তরের অন্ত স্থলে বইয়ে দেয় এক সুশীতল প্রশান্ত নদী, যা সব কালিমা ধুয়ে ধুয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে আসে হৃদয়ে।

পরিনত বয়স থেকেই নানা পেরেশানির মধ্য দিয়ে যেতে হয় একটা মানুষকে। নানা ব্যস্ততা, নানা রকম চ্যালেঞ্জ। আর আল্লাহ তো বলেই দিয়েছেন কুরআনে তিনি দুশ্চিন্তা, ক্ষতি, রোগ দিয়ে মানুষকে পরীক্ষা করবেন। এমনকি সম্পদ দিয়েও মানুষকে পরীক্ষা করবেন।

কিন্তু এই পরীক্ষার মার্কিং হয় কিভাবে? মার্কিং হয় আল্লাহকে এইসব পরীক্ষার মধ্যেও কে কতটুকু স্মরণ করছে তার উপর, কে কঠিন কষ্টের মাঝেও তার কাছে সিজদা-নত, অথবা কে অধিক ধন সম্পদের মাঝেও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ, নিরহংকারী এবং তার দেয়া সম্পদ থেকে বঞ্চিতদের জন্য খরচ করছে।

শয়তান চায়, মানুষ আল্লাকে ডাকা ভুলে যাক। এজন্য যত চাকচিক্য, দুনিয়ার যত মন ভোলানো জিনিসের মধ্যে, আনন্দ ফুর্তি, মাস্তির মধ্যে মানুষকে সে ডুবে যাবার ওয়াসোয়াসা দেয়। এরপর সে চায় মানুষ ভুল যাক যে তার একজন স্রষ্টা আছে এবং সে মনের ভেতর সন্দেহ ঢুকিয়ে দেয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“আর যারা আল্লাহর জিকির হতে বিরত থাকে, আমি তাদের জন্য শয়তানকে নির্দিষ্ট করে দিই, সেই-ই তাদের সাথী হয়ে যায়। আর নিশ্চয় তারা তাদেরকে সঠিক রাস্তা থেকে দূরে সরিয়ে দেয় যদিও তারা ধারণা করে যে, তারা হেদায়েত প্রাপ্ত”। (সূরা আয যুখরফ: ৩৬-৩৭)

“তোমরা তাদের মতো হয়ে যেয়ো না যারা (দুনিয়ার ফাঁদে পড়ে) আল্লাহকে ভুলে গেছে এবং এর ফলে আল্লাহ তাআলাও তাদের (নিজ নিজ অবস্থা) ভুলিয়ে দিয়েছেন, (আসলে) এরা হচ্ছে নাফরমান” (সূরা হাশর:১৯)

কিন্তু জিকির মানুষের মনকে জাগিয়ে রাখে। জীবনের সমস্ত পরীক্ষা, কাজ, ব্যস্ততা ছাপিয়ে, তাই একজন বিশ্বাসী নামায এবং জিকিরের মাধ্যমে মনটাকে জিইয়ে রাখার সংগ্রাম করে চলে।

এটাই তো সব থেকে উত্তম সংগ্রাম। যার মাঝে রয়েছে শান্তি।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.