কেমন দেখতে চান আপনার প্রতিবিম্ব ?

  • selfie maniac
  • Selfi Pic
  • selfie maniac

মানুষ মাত্রই নিজের একটা প্রতিবিম্ব দেখতে ভালবাসে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুতিয়ে খুতিয়ে দেখেন না এমন মানুষ কমই পাওয়া যাবে। এই যে নিজের প্রতিবিম্ব দেখা, এর ও কিন্তু অনেক রকমফের আছে। যেমন ধরেন একজন বাবা নিজের সন্তানের মধ্যে নিজের স্বপ্নের প্রতিবিম্ব খুঁজে বেড়ান। অথবা একজন শিল্পী নিজের মনের প্রতিবিম্ব আঁকেন ক্যানভাসে।

আবার একজন লেখক নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পান তার লেখার মধ্যে। একজন ডাক্তার নিজের প্রতিবিম্ব দেখেন তার সেবার মাধ্যমে। যিনি সমাজকর্মী, হয়তো দুখী অসহায় মানুষের মুখের হাসিটাই তার নিজের প্রতিবিম্ব হয়ে উঠে।

এখন কথা হল, কে কিভাবে নিজের প্রতিবিম্ব দেখছেন ? কোন কাজে তার নিজের প্রতিবিম্বটার সার্থকতা ?

ইদানীং মেয়েরা ছেলেরা, সবাই নিজের সেলফি দিয়ে প্রতিবিম্ব দেখতে ব্যস্ত।অনেকে তো নিয়মিত সেলফি দিয়ে দিয়ে ফেবু ভরিয়ে ফেলে। নানান পোশাকে, নানান জায়গায়, নানা ভঙ্গীতে সেলফি।এবং তাদের অঢেল সময় এগুলো করার। আর কেউ কেউ তো নিজের মুখকে বিকৃত করে ফেলছে এই সেলফি তুলতে গিয়ে।

এদিকে বৃটিশ গবেষণা বলছে যারা সেলফি তোলেন অনেক বেশি, তারা Self Esteem বা আত্মসম্মান-হীনতায় ভুগছেন। অ্যামেরিকার একটা গবেষণা থেকে মনোবিজ্ঞানীরা ঘোষণা দিয়েছেন যে যারা প্রচুর সেলফি তোলেন এবং নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করেন তারা কোন না কোনোভাবে Mental Disorder এ ভুগছে, যেটা তারা নিজেরাও উপলব্ধি করতে পারছেনা।

Selfi Pic

The APA made this classification during its annual board of directors meeting in Chicago. The disorder is called selfitis, and is defined as the obsessive compulsive desire to take photos of one’s self and post them on social media as a way to make up for the lack of self-esteem and to fill a gap in intimacy.

সে যাইহোক, নিজের প্রতিবিম্ব মানুষ দেখতে ভালবাসে এটা বাস্তবতা। কিন্তু সমস্যাটা অন্য যায়গায়। এই যে এত এত ছবি তুলে বিভিন্ন ভঙ্গিতে মানুষ ছবি শেয়ার করছে ফেসবুকে এর উদ্দেশ্যটা কি ? উদ্দেশ্য ছাড়া মানুষ যদি এত এত ছবি শেয়ার করে তাহলে নিশ্চয় এর পেছনেও একটা মনস্তাত্ত্বিক যুক্তি আছে। অথবা যদি কোন উদ্দেশ্য থেকে থাকে, তাহলে সেটা কি হতে পারে ?

আমার ধারণা থেকে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ লিখছি,

এক, যে রোজ রোজ সেলফি দিচ্ছে, তার হাতে প্রচুর সময়। সে এইসব ছবি শেয়ার করে একধরণের সময় কাটাচ্ছে বলা যায়।

দুই, সে হয়তো একজন সেলিব্রেটি। তার ফ্যানদের কে আরও আকৃষ্ট করতে তার এই সেলফি সেলফি খেলাটা খেলতেই হয়।

তিন, হয়তো তিনি চাচ্ছেন তাকে দেখে সবাই মুগ্ধ হোক, কমেন্ট বলুক, আহ তুমি কত সুন্দর।

চার, সেলফি টা তার জন্য মাদকতার পর্যায়ে পৌঁছে গ্যাছে। কথায় কথায় সেলফি না দিয়ে সে থাকতে পারছেনা।

পাঁচ, যেহেতু যুগটাই এখন সেলফি আর সোশ্যাল মিডিয়ার, তাই জীবনের প্রত্যেকটা সময়কে সে সেলফি কিংবা নিজের ছবিতে ধরে রাখতে চায় আর মানুষের কাছে শেয়ার করেই তার আনন্দ।

এরকম আরও হাজারটা কারণ থাকতে পারে। এখন নিজের প্রতিবিম্ব তো অনেক উপায়ই দেখা যায়। কিন্তু ভেবে দেখুন না এই যে সেলফি মেনিয়ায় ভুগছেন, এটি কতটুকু Output বয়ে নিয়ে আসছে। এর থেকে আপনার জীবনেও বা কোন উপকার হচ্ছে ? অথবা নিজের সময়গুলো সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা সেটা নিয়েও একটু ভেবে দেখুন।

অথবা এমন একটা কাজ করুন যেন সেই কাজের মাধম্যে আপনি নিজের এবং মানুষের উভয়ের সামনে একটা গঠনমূলক প্রতিবিম্ব তৈরি করতে পারেন। যেন সেই ভাল কাজটাই হয়ে উঠে আপনার প্রতিবিম্ব। একটা ভাল বই পড়ুন, নইলে বন্ধুদের নিয়ে ভাল কিছু করা যায় কিনা খুঁজে বের করুন।

আশেপাশে তাকিয়ে দেখুন, দেখবেন করার মত এত কিছু আছে। যদি আপনার অঢেল সময় থাকে, তাহলে নিজের সময়ের উপযুক্ত ব্যবহার করুন। নিজের যে যোগ্যতা আছে, যে প্যাশন আছে, সেটিকে খুঁজে বের করুন। সেলফি তুলে ফেবুতে শেয়ার করার থেকে আরও অনেক অনেক কাজ আছে আপনার আশেপাশে। হয়তো আপনার মতই অনেক অসহায় ছেলেমেয়েরা পড়ালেখার খরচ জোগাতে পারছেনা, তাদের জন্য কিছু একটা করুন।

কিংবা, কোন একটা সংগঠন পথ-শিশুদের নিয়ে অথবা সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য স্কুল চালাচ্ছে। তাদের জন্য ফান্ড কালেকশন করুন। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিজের ফ্রি সময়টা কাজে লাগান।

হাসপাতালে সপ্তাহে একদিন হলেও যান, গিয়ে দেখুন মানুষ কত অসহায় অবস্থায় আছে, কারো রক্ত দরকার, কেউ হয়তো কিছু টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেনা। তাদের জন্য একটু সময় দিন। তাদের মাঝে নিজের প্রতিবিম্ব দেখার চেষ্টা করুন।

তারুণ্যের মত মূল্যবান সময় আর নেই। এই তরুণ বয়সেই শক্তি আর অপার সম্ভাবনার দুয়ারটা খোলা থাকে। এই সময়ে যদি সমাজের জন্য কিছু করার উদ্যোগ নিতে পারেন, সেটি হতে পারে জীবনের সেরা প্রতিবিম্ব।ভাল কোন গঠনমূলক কাজে জড়িত হলে দেখবেন অযথা সময় নষ্ট করার মত সময়ই পাচ্ছেন না।

নিজেরা যে সুযোগ সুবিধা ভোগ করছি আমরা, সেটির জন্য আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে, এই উপলব্ধিটা সবার মাঝে জাগ্রত হোক। আমরা সবাই হয়ে উঠে অন্যের কল্যাণের উৎস।
সেলফি নয় নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে শিখি মানুষের মাঝে, কল্যাণকর কাজের মাঝে। সেটাই হবে সব থেকে উত্তম সেলফি।

জগতের সকল প্রাণীর কল্যাণ হোক। শান্তি বর্ষিত হোক সবার উপর। আমীন

Facebook Comments

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.