জীবন থেকে নেয়া – ২

অনেকে বলে অশিক্ষিত লোকেরাই শুধু বউ পেটায়। কথাটা মিথ্যে প্রমান করেছিল ইফতি। নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আর বউও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা। কিন্তু প্রায়ই তার ভেতর একটা জন্তুর উদ্ভব হতো, যে জন্তুটা বাছ বিচার না করে বউ এর উপর নির্মম অত্যাচার করতো!

বিয়ের প্রথম বছরগুলো ভালই ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সম্পর্কের টানাপোড়ন বাড়ছিল আর ইফতির নিষ্ঠুরতাও বেড়ে চলছিল সমান তালে।

এত মিল অমিল, বাক বিতণ্ডার মধ্যে দিয়েই একি ছাদের নিচে বাস করছিল তারা। হয়তো একটা আশায়, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। এত কিছুর মাঝেও দুটো সন্তানের বাবা মা হল এই দম্পতি। কিন্তু ইফতির আচরনে কোন উন্নতি নেই। সেই একি ব্যবহার, একি রকম রুক্ষতা।

শেষমেষ তাদের চলার পথ বিচ্ছিন্ন হল। দুজনের পথ দুদিকে চলে গেল। আত্মসম্মানবোধ নিয়ে যদি দুটো মানুষ এক সাথে বাস করতে না পারে। তাদের জন্য হয়তো এই বিচ্ছিন্নতাতেই কল্যান রয়েছে।
অন্তত বউটা শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে করতে হাপিয়ে উঠেছে হয়তো।

এটা নতুন কোন গল্প নয়। হর হামাশাই এই গল্পগুলো শুনি চারপাশেই। কি শিক্ষিত, কি মুর্খ, একজন মানুষ যদি সত্যিকার অর্থে বউ কে বন্ধু না ভেবে সম্পত্তি ভাবে, যদি মনে করে বউ কে হুকুমের গোলাম বানানোই তার একমাত্র উদ্দেশ্য, তাহলে সেইসব পুরুষের জন্য দু:খই হয়। কারণ এরা কোনদিন একটা শান্তিপূর্ণ বৈবাহিক জীবন পাবেনা। অন্তত বউটা যদি আত্মসম্মানবোধ সম্পন্না হয় তাহলে তো সম্ভবই না। হ্যা, কিছু কিছু অসহায় মেয়ে তো আছেই। নিরুপায় হয়ে বাধ্যগত বউ হয়ে কাটিয়ে দেয় সারাজীবন।

আর যেইসব পুরুষের বউ পেটানোর স্বভাব হয়ে যায়, তাদের অবস্থা আরো বেগতিক।

এরকম ইফতিদের কাউন্সিলিং আয়োজন করা দরকার। আর দরকার বাবা মায়ের পক্ষ থেকে ছোটবেলা থেকে সঠিক শিক্ষা।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখেছি মেয়েরা এইসব এবিউজ সহ্য করে যায় নিরবে। ভাবে বিয়েটা টিকিয়ে রাখতে হবে তাই চুপ থাকাই ভাল। কিন্তু বিয়েটা টিকিয়ে রেখে লাভ কি যদি সেখানে শান্তি না থাকে? অথবা, অন্যায় মেনে নিয়ে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে ভাল কিছু তো হয়না।

আল্লাহ সবাইকে বিয়ের উদ্দেশ্য যে শান্তিময়তা এটা বুঝার তৌফিক দিন। আমীন

Facebook Comments

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.