জীবন থেকে নেয়া : ৪

গালিবের মা আগের দিনের মানুষ। তার পুরোনো চিন্তা ভাবনা বিশ্বাসের সাথে গালিবের প্রজম্নের অমিল অনেক।

গালিবের বউ এর যখন গর্ভাবস্থা, তার মা কিছুতেই বউ কে হাসপাতাল এ কিংবা ক্লিনিকে ডাক্তার এর কাছে নিতে দিবে না। তার ধারণা বউ ওর পর্দা নষ্ট হবে। এছাড়া তার নিজের তিন সন্তান হয়েছে কোন হাসপাতাল ডাক্তার ছাড়া। তাহলে কেন তার বউ কে ডাক্তার এর কাছে যেতে হবে।

গালিব মা কে অনেক ভালবাসে বলে তার কোন কথার অবাধ্য হয়না। এক্ষেত্রেও গালিব মায়ের কথামত বউ কে ডাক্তার এর কাছে নিলনা। কিন্তু ৫ মাসের পর বউ এর অবস্থা খারাপ হল। জটিলতা বেড়েই চলল কিন্তু তার মা কিছুতেই বউ কে ডাক্তার এর কাছে নিতে দেবে না।

শেষমেষ বউ এর অবস্থা এতটাই বেগতিক যে একদিন প্রচন্ড ব্যথায় তার যায় যায় অবস্থা। ফলে এম্বুলেন্স দিয়ে হাসপাতাল এ নিতে বাধ্য হল।

কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরী হয়ে গেছে। হাসপাতাল এ নেবার পরেরদিনই গালিবের বউ মারা গেল, তার বাচ্চাটা আরো বেশ আগেই পেটের ভেতরে মারা গেছে।

ঘটনাটা হয়তো অনেকে বলবে ব্যাতিক্রম। কিন্তু এই যে জেনারেশন গ্যাপ এটা ব্যাতিক্রম না। দুই জেনারেশনের মধ্যকার চিন্তা ভাবনা, বিশ্বাসের মধে যে পার্থক্য এটা অস্বীকার করার নয়, বরং দুটোর মধ্যে কিভাবে সেতুবন্ধন রচনা করা যায় পরামর্শ এবং বুঝাপরার মাধ্যমে সেটাই মূল বিষয়।

মা বাবা বলে তাদের ভূল বিশ্বাস কিংবা কাজকে সমালোচনা করা যাবেনা ব্যাপারটা এমন হওয়া ঠিক না। বরং সম্মানের সাথে তাদেরকে বুঝাবার চেষ্টা করা দরকার।

এ ক্ষেত্রে আলোচনার বাস্তবতা তুলে ধরার কোন বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মের সমস্যাগুলো তুলে ধরা প্রয়োজন।

Facebook Comments

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.