টুকরো কবিতাগুলো

  • Europe_Switzerland_Alps_Church_APT_7169153i_LLR
  • 20151026_135051
  • 20160312_224321

১।

কুশল জিজ্ঞাসার ছলে
কতবার জড়িয়ে গেছি দীঘল আলাপের জালে,
এরপর মন খুলে জীবনের গল্প দিয়ে গাথি
সময়ের ফোর
রন্ধ্রে রন্ধ্রে তার অজস্র সম্পর্কের ঘোর…

২।

সময়,চলে যাচ্ছে বহুদূর
ফেলে রেখে,কিছু কষ্ট সুখের সুর
তুমি আমি, কুড়াই সে সুরেদের গুটি
মনের ভেতর, চলে স্মৃতির লুটোপুটি..

সেই স্মৃতির গলি,পেরিয়ে গেলেই চুপ
হাজার মুখের ভীড়ে, জীবন অপরুপ
এই জীবনবোধের সবটা জুড়েই সে
শুধু চাইলেই, উজার করে দেয় যে..

সময়, সে তো তার ইশারার খেলা
আমরা কেবল কাটাচ্ছি কাল বেলা
আর শব্দ কিছু ফুটাচ্ছি রোজ মুখে
চলে যাবো বলে খেলছি সুখে দুখে….

৩।

আমার আবছা গেরস্থালী
জমে থাকা ধুলোবালি
দেয়ালে দেয়ালে আঁকিবুকি রোজ
জোৎস্না এক ফালি…

৪।

যুলেখা লিখেছিল শেষ অক্ষর কিছু
জমানো অভিমান ছিড়েকুড়ে,
বাক্যের সর্বাংশে ঢেলে দিয়েছিল
না বলা কথার নিষ্কলুষ আবেগ…

যুলেখা যে অঘ্রানের শেষে ফিরে গেল
রেখে গেল শেষ পদশব্দের মায়া
ছোট্ট যুগল হাত,
নুন পিয়াজের গন্ধে ভেজানো উনুন,
আর-
শেষ সিজদার চিহ্ন ঘেরা শীতল জায়নামাজ।

যুলেখা লিখেছিল শেষ অক্ষর কিছু
লাল ডায়েরির পাতায় পাতায়
তার নিষ্কলুষ আবেগ, এখনো সতেজ…

৫ ফেব্রুআরি

 

৫।

তুমি বললে, কাছে এসোনা কখনও-

নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে দেয়ালে টানিয়ে রাখা কোন এক শিল্পীর আঁকা ছবি যেভাবে দেখো, সেভাবে দেখে যাও যাপিত জীবন।

তুমি বললে, আমার কবিতা কে বুঝতে চেওনা কোনদিন-

ঘোড় শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে, যেভাবে আগুনের উত্তাপ নাও, সেভাবেই শব্দের তেজ উপলব্ধি করো।

তুমি বললে, দু:খ লুকাও-

যেভাবে লুকিয়ে রাখো অগোছালো গৃহকোন…

( ২ ফেব্রুআরি ২০১৬)

 

৬।

তুমি আমি শব্দ দুটো খুব পুরাতন
খুব পুরোনো তুমি আমির ব্যঞ্জনাময় প্রেম বিরহ,
কৃচ্ছ্রসাধন …

তুমি আমির রুপালী রুপ ভাঙা দোরে
রোজ যেভাবে পদ্ম ফুটে
সিজদা ছুঁয়ে নতুন দিনের রাঙা ভোরে
রোজ যেভাবে সূর্য লুটে

তার ভাঁজে ভাঁজে আমি তুমির চৌকাঠেতে
ভালবাসার অমোঘ বাঁধন,
কৃচ্ছ্রসাধন …

তুমি আমির পুরাতন সেই এক দেয়ালে
আঁকছি কেমন নতুন ছবি নিত্যদিনি
দিনবদলের নিষ্ঠুরতায় কোন খেয়ালে
চলছি হেঁটে স্বপ্ন ঘেসে, হচ্ছি ঋণী

তুমি আমি শব্দ দুটো খুব পুরাতন
মহাকালের তোড়ন ভেঙে হচ্ছে খাটি
কৃচ্ছ্রসাধন…

৭।

তুমি আমির পুরাতন সেই এক দেয়ালে
আঁকছি কেমন নতুন ছবি নিত্যদিনি
দিনবদলের নিষ্ঠুরতায় কোন খেয়ালে
চলছি হেঁটে স্বপ্ন ঘেসে, হচ্ছি ঋণী…

৮।

কাঁচা ধানের ক্ষেতে,
উপচে পরা সতেজ হাওয়া
হয়না তো আর পাওয়া
এখন শুধু নগরীতে রোবট হেটে যাওয়া

গরুর গাড়ির নষ্ট চাকায় স্মৃতির চিহ্ন আঁকা
নতুন ধানের গন্ধে ভরা গাঁয়ের পথটা বাকা
নাগরিক সব জটিলতায় এখন সবি ঢাকা

সর্ষে হলুদ মাঠে, ছোট নদীর ঘাটে
দূরন্ত সেই ছুটে চলার স্মৃতি পাটে পাটে
স্মৃতির জোয়ার বুকে নিয়ে জীবন খানা কাটে

 

৯।

তোদের দু:খগুলো দে
আমি নকশা একে সুখের গল্প শুনিয়ে যাবো রোজ।

অভিজাত সব আড্ডাবাজের ভীড়ে
হারিয়ে যাবার সময় খুঁজে ফিরে
নাইবা হল জীবন পরিপাটি!

শুধু বলি, দু:খগুলো দে
বর্ষা মেঘে ভিজে চুলোয় পুরে
সব হয়ে যাক ষোলআনা খাটি….

১০।

এখানে মানুষ, মানুষ হতে ভুলে যায় কেবল
মৃত্যু অবধি তার ভিন্ন কিছু হবার প্রচেষ্টা!
ভোগ্য পন্যের মোড়কে লকলকে জিহ্বার মত
এখানে মানুষ করে বিবেকের কেনা বেচা!

(এখানে কিছু মানুষ তবু বাঁচে,
এক কনা শস্যে ধরনীর,
ওষ্ঠে লেপ্টে থাকে সুগভীর কৃতজ্ঞতা,
হৃদয়ে শান্তির নীড়)

এখানে মানুষ আনবিক বোমার মত
ধ্বংসে, তান্ডবে বিভৎসতায় অতুলনীয়
হিরোশিমার মত এখানে মানুষ,
নিচতা, নিষ্ঠুরতার অনবদ্য প্রতিক!

এখানে মানুষ, হয়তো মানুষ নয়
মানুষের মোড়কে হয়তো,
ধ্বংস পোকার জন্ম হয়!

১১।

সহজাত ভাঙনের অভ্যাসে ভেঙে হও চুরচুর
আবার -বিচ্ছেদ, বিবর্ণতাকে করে পরিহাস
বিজয়ীর মত করে হতাশাকে কর দূর দূর

জ্যোৎস্নাময় রাতের ফোকরে ঠেসে আছে
আগামীর যতটা আধার
তার ফর্দো এটে বসে আছো বর্তমান তুমি
অথচ, শিয়রে উপস্থিত সমুদ্র বাঁধার!

১২।

মৌনতা মোহময়,
অস্তিত্ব বিদির্ন করে নিয়ে আসে নীল নিস্তব্ধতা,
ডুবে যাওয়া জাহাজের মত
স্থিরতা নির্লিপ্ততা ডেকে আনে,
আর,
ছাড়পত্রহীন বিদায়ের স্বাক্ষর রেখে যায়
যুলেখার খোলা জানালা!

 

১৩।

কোথায় লুকালো সে ঘরদোর, পুরোনো সে
মায়ের সংসার!
ঝরে গেল নিপুন হাতে বুনানো ফুলগুলো, পুরোনো কাথার!
কাঁসার থালাবাটি, ক্ষয়ে যাওয়া টিফিনের বক্সগুলো নেই
স্মৃতির পাখিরা পাখা ঝাপটায়, মনের দরজা খুলি যেই!

নম্ফোতে জ্বলে যেন আজো সেই সন্ধার আলো,
আজো যেন অম্লান, মুছে দেয় আধারের কালো।
কাদামাটি দিয়ে গড়া মায়ের উনুন গেলো কই
ঘিরে থাকা ভাইবোন,খুনসুটি যত হইচই।

সময়ের গহবরে সবকিছু কিভাবে তলায়
পুরোনো ধানের ক্ষেতে,
চাষী তবু নয়া নয়া ফসল ফলায়!

১৪।

শেষ হলে আমাদের রান্না বাটির খেলা
বুকের ভেতর জেগে ওঠে একটা মহাদেশ
চীরচেনা দীগন্তে সাঁতার কাটার উৎসবে
সাড়ি সাড়ি গাছেরা মেলে ধরে সবুজ কেশ..

১৫।

আবছা শহর, আবছা পথের বাঁকে
আবছা রকম দৃষ্টি গেড়ে খুঁজছি কেবল তাকে
আবছা উঁচু দালানবাড়ি,আবছা আলোর ঝাক
সন্ধ্যা রাতের আবছা পথে হারাই যদি বাক!

১৬।

এই পৃথিবীর গোলক চক্রে,
নাম না জানা বাসিন্দা এক-
না, তার কোন ভূখন্ড নেই!
সে কেবল নিষ্পেষিত, নিপীড়িত হয়ে
বার বার ফিরে আসে মানুষের রুপে !

যেখানে শোষকের ভারী বুটের নিচে চাপা পরে মানবতা,
সেখানেই জন্ম হয় তার।

রক্তাত্ব প্রান্তরে ফিলিস্তিনের মত চাপা চিৎকার,
ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরীর স্তুপের মত নির্বাক হয়ে যায়,
পৃথিবী শুনেনা সে আর্তনাদ,
পৃথিবীর অন্যপ্রান্তে তখনো চলে বেমালুম উল্লাস!

ক্রমশই বাড়তে থাকা জুলুমের শেকলে বন্দি হতে হতে,
সে ভুলে যায় স্বাধীনতার স্বাধ!

না তার কোন ভূখন্ড নেই,
নিষ্পেষিত, নিপীড়িত হয়ে বার বার সে ফিরে আসে,
বার বার পরাধীনতার শেকলে হয় বন্দি
ভেঙে চুড়ে সব আহ্লাদ !

শিমু, ১৫/১২/২০১৫

 

১৭।

 

Facebook Comments

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.