বিয়ে নিয়ে কিছু কথা

  • FB_IMG_1455289298741
  • FB_IMG_1455289308980

তার বউটা কালো, কেউ কেউ বলে শ্যামলা। সে যাই হোক, বউটাকে সাদা সুন্দরী ফিল্টারে যাচাই করলে সুন্দর না। ঠিক শেক্সপিয়ার এর ঐ কবিতার লাইনগুলোর মত,

“”My mistress’ eyes are nothing like the sun;
Coral is far more red than her lips’ red;
I have seen roses damasked, red and white,
But no such roses see I in her cheeks””

একদিন কফিশপে চায়ের কাপটা হাতে নিতে নিতে সে তার বউকে যখন বললো,
“তুমি অদ্ভুত সুন্দর কিন্তু,কেমন একটা মায়া আছে তোমার মধ্যে”

এই ছোট্ট একটা কথা, তার বউটার মনে সারাজীবনের জন্য গেঁথে গেল।

মেয়েরা সাধারণত খুব বেশি কিছু চায়না বলে আমার মনে হয়। মেয়েদের মন জয় করাটা অনেক সহজ একটা কাজ। যদি ছেলেরা বিয়ের আগে মেয়েদের টিপিকাল সাইকোলজিগগুলো একটু জানার চেষ্টা করে, তাহলে একটা সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য এটা অনেক বড় উপকারে আসবে নিশ্চিত।

মেয়েরা সাধারনত অনেক বেশি প্রায়োরিটি পেতে পছন্দ করে। বিশেষ করে বিয়ের প্রথম প্রথম ১ টা বছর এই চাহিদাটা আরো বেশি থাকে।

এ পর্যন্ত খুব পরিচিত মহলে যাদের কাছে বিয়ের পর পর মন মালিন্যের কথা শুনেছি, সবার একটা কমন সমস্যা খেয়াল করেছি, সেটা হল, দুইজনই বলে কেউ কাউকে বুঝতে চায়না।

এ সময়টায় আসলে পুরোপুরি দুইটা জগতের দুইজন মানুষ একসাথে পথ চলতে শুরু করে মাত্র। সব কিছু ভাগাভাগির শুরুটাও হয়। ২৩/২৪ কিংবা তারো বেশি সময় সম্পূর্ণ আলাদা একটা জগতে বাস করে আসা দুটো ভিন্ন মানুষের পছন্দ, অপছন্দ, ভাল লাগা মন্দ লাগা সবই ইউনিক। কিছু বিষয় হয়তো মিলে। কিন্তু বেশিরভাগটাই একটা দ্বন্দের মধ্যে দিয়ে যায়। দুটো স্বতন্ত্র ব্যাক্তি মানুষের মধ্যেকার একটা syncronization ঘটার প্রক্রিয়াটা বেশ জটিল বটে।

তাই এই সময়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়। দুই জনকেই এই সময়টাতে ধীরে ধীরে কষ্ট পেয়ে হলেও অনেক কিছু মানিয়ে নিতে হয়। স্বপ্নের ডালা নিয়ে বিয়ে পর যে জীবনটা শুরু হয়, সেটা একটা মহা বাস্তবতা। সেখানে সব স্বপ্ন পূরণ যেমন হয়না, তেমনি অনেক কিছু অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া হয়ে যায়।

কিন্তু দুইজনের যদি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে মতের যায়গাটা মিলিয়ে নেয়া যায়, তাহলে সব সহজ হয়ে যায়।

এই যেমন, বিয়ের উদ্দেশ্য। বিয়ের উদ্দেশ্যটা কি? শুধু কি করার জন্য করা? ইচ্ছে হলনা ছেড়ে চলে গেলাম টাইপ?
মোটেই তা নয়। বিয়ের উদ্দেশ্যটা হল শান্তি। এখন যে যে উপাদানগুলো এই শান্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সেগুলো দূর করার জন্য দুইজনকে নিয়মিত সচেষ্ট থাকতে হয়। নইলে অযাচিতভাবে বাহ্যিক অনেক কিছু এসে শান্তির উদ্দেশ্যটা গায়েব করে দিয়ে জীবনকে অতীষ্ট করে তুলে। এবং এই সময়ই শয়তানও মানুষকে ভালভাবে ওয়াসোয়াসা দিতে শুরু করে।

অনেকে বউকে ভালবাসি এই কথাটা বলতে দ্বিধায় মরে যায়। আর বউ বেচারিরা এই কথাটা একটু শুনতে চায়, এটা নিয়েও দ্বন্দ্ব। আরে বাবা, বর বউ এর এত একান্ত সম্পর্কে এই ভালবাসি শব্দটা উচ্চারনে এত দ্বিধা কেন?

আবার বর বেচারাটা অনেক সময় একটু বেশি বেরসিক। কি আর করা, বউটারো সে ক্ষেত্রে একটু বুঝে নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে বউ নিজ উদ্যোগে চেষ্টা করতে পারে বরটাকে যদি একটু বদলানো যায়।

যাইহোক, খুব ছোটখাটো ব্যাপারগুলো, আবার খুবই কমন। আমি যে কত কত মেয়ের কাছে এই একি রকম কাহিনী শুনি তার ইয়ত্তা নেই।

এসব লিখবো কি লিখবোনা করেও লিখে ফেললাম। হয়তো যারা নতুন বিয়ে করতে যাচ্ছেন তাদের কাজে লাগবে 🙂

“আল্লাহ সবার উপর শান্তি বর্ষিত করুন। আমীন “

Facebook Comments

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.