মৃত্যুর অধিক

  • photo-1423816392
মাঝ রাতে জ্বরটা হঠাৎ করেই আবার এলো গত রাতে । গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জ্বরটা খুব করে জ্বালিয়ে ভেবেছিলাম বোধয় এবার সেরেই উঠলাম। কিন্তু নাহ, জ্বরটা সারা রাত কষ্ট দিল। অথচ কাল সকাল ১০ টায় পরীক্ষা। মনটা কেমন যেন অস্থিরতায় কাটছিল কিছুদিন থেকেই। পর পর শুধু দুঃসংবাদগুলো হুরমুর করে ঢুকে পরছিল আমার বৃত্তে। মাথাটা সারাক্ষণ ধরে থাকছে পেরেশানিগুলো। অদ্ভুত সব চিন্তাভাবনা আর বিচ্ছিন্ন সময়ের বিকেল দুপুরগুলো খুব গোমরা মুখো হয়ে আছে।
রাতে তেমন আর পড়া হলনা। মগ ভর্তি চা নিয়ে বইটা একবার হাতে নিয়েছিলাম সন্ধ্যায়। কিন্তু কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারছিলাম না। পরে এক সময় কবিতা লিখতে বসে গেলাম। গতকাল সকালেও খবর পেলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের লাশ পাওয়া গেছে। আজকে মা বলল ঠাকুরগাঁও এ আমাদের পাড়ায় একদল ছেলেকে কুপিয়ে রক্তাত্ব করেছে ছাত্রলীগের ছেলেরা। একজনের মাথায় কোপ লেগে কানসহ আলাদা হয়েছে, হয়তো সে বাঁচবেনা। কেন মারল জানার ইচ্ছা করেনি।

অনেকদিন পর এক পুরনো বন্ধুর ফোন পেলাম। ফুঁপিয়ে কাঁদছিল জেরিন। ডিপার্টমেন্ট এ সব থেকে মেধাবী তার ভাইটাকে মসজিদ থেকে তুলে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা । যোহরের নামাযের শেষ সিজদাটিও দিতে দেয়নি ভাইটাকে।

আজকে ফজরের নামাজের পর আবার ঘুমিয়েছিলাম। ঠিক সকাল ৭.৩০ এর দিকে। স্বপ্ন দেখছিলাম। স্বপ্ন তো দেখি অনেক। কিন্তু এমন স্পষ্ট স্বপ্ন খুব কমই দেখেছি, পুরো স্বপ্নটা এখনো হুবহু চোখ বন্ধ করলে দেখতে পাচ্ছি।

সেতু আমাকে বলছিল বুবু চল একটা রোগীকে দেখতে যাবো। আমি জানতে চাইলাম কোথায় ? বলল হার্ট ফাউন্ডেশন এ। ঠিক কাকে দেখতে যাচ্ছি জানিনা। এরপর দেখি যেখানে গিয়েছি সেখানে বিশাল জায়গা জুরে শুধু ফুঁসের ঘর । আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে সেতুকে জিজ্ঞাসা করলাম, সেতু এটা তো একটা গ্রাম মনে হচ্ছে। এটা কি আসলেই কোন হাসপাতাল ?

সেতু আমাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে একটা ঘরে ঢুকল। ভেতরে ঢুকেই আমি আতংকে চমকে উঠলাম। দেখি এক বৃদ্ধ মানুষকে শুয়ে রাখা হয়েছে। ধবধবে সাদা মানুষটা। মৃত্যুর জন্য যেন অধির অপেক্ষা শেষে হাঁপিয়ে উঠেছে প্রৌঢ়। সারা মেঝেতে রক্ত আর যন্ত্রণায় চিৎকার করছিল লোকটা। আমি ভয়ে জড়সড় হয়ে উঠছিলাম। কিছুক্ষণ পর নেমে এলো মৃত্যুর হুংকার। বৃদ্ধ আচমকাই মৃত্যু যন্ত্রণায় ফেটে পরতে লাগলেন। হঠাত দেখি বৃদ্ধের মুখ থেকে জিবটা বেরিয়ে আসতে লাগলো… কিছুক্ষণ পর বীভৎসভাবে তার শরীর থেকে সমস্ত অংশগুলো বেরিয়ে এসে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পরলেন।

ঘুম ভাঙ্গতেই দেখি চারিদিক দিনের আলোয় ভেসে যাচ্ছে। কিন্তু সেই স্বপ্নের মৃত্যুমুখী বৃদ্ধের বীভৎস দৃশ্য আমাকে সারাদিন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে …

নিয়মমতো পরীক্ষা থেকে রুমে ফিরেই ২ ঘণ্টা পরে পেলাম অভিনেতা ফরিদির মৃত্যু সংবাদ, যিনি ঠিক আমার পাশের বাড়ীটাতেই বাস করতেন … !!!

পৃথিবীটা কি মৃত্যুপুরী নাকি ??

১৩।০২।২০১২

( অনেক পুরনো একটা লেখা, একটা স্বপ্নের বর্ণনা। সেদিন বাংলাদেশের বিখ্যাত অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদি মারা যান। লেখাটার সাথে তিনি যুক্ত হয়ে আছেন অজান্তেই। তিনি যদি আল্লাহর উপর ঈমান আনা অবস্থায় মারা গিয়ে থাকেন, আল্লাহ উনাকে ক্ষমা করে দিন। আমীন )

Facebook Comments

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.