Empathy বা সমানুভূতির আকালের কালে

  • empathy-3
  • gGXo3MfgTN8GBjq8otF8txcL
  • roman_sermon_base
  • empathy-quote-a-place-for-mom-1024x804
  • empatia2
  • Empathy-definition

 

 

 

অনেক মর্মান্তিক ঘটনা চাপা পরে যাচ্ছে ঠুনকো সব আজাইরা কচলানি দিয়ে। একদিকে জ্বলন্ত মহিলাকে দেখেও প্রতিবেশির কপাট বন্ধ করার নিষ্ঠুরতা অন্যদিকে একটা প্রজন্ম জুব হয়ে আছে যাচ্ছেতাই নিয়ে।

মানুষ সমানুভূতি (empathy) শিখবে কিভাবে? empathy এমন একটা শিক্ষা যা বাবা মায়ের পরম স্নেহ ভালবাসার স্পর্শে তৈরি হয়। তিল তিল করে বাবা মায়ের আচরণ দেখে, গুন বৈশিষ্ট্য, কাজ কর্ম দেখে সন্তান empathy শিখে। বাবা মায়ের দয়ার্দ্র রুপ সন্তানের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।

সমানুভূতি, জিনিসটা কি? অন্যের অনুভূতি ধারণ করতে পারা। আপনি সুখে আছেন, কিন্তু পাশের বাড়িতে ঝগড়া অশান্তি, হতাশা, দারিদ্র লেগে রয়েছে। আপনি দেখছেন, দেখেই চলেছেন। কখনও বিরক্ত, কখনো রাগ, কখনোবা বলছেন আমার কি ওরা মরে মরুক। আপনি পাশের বাড়ির কষ্টগুলো, হতাশাগুলো অনুভব করতে পারছেন না। যদি মন দিয়ে অনুভব করতে পারতেন, তাহলে তাদের পাশে দাঁড়াবার জন্য একটিবার হলেও চেষ্টা করতেন।

empathy-quote-a-place-for-mom-1024x804

 

আপনি যদি সমাজের অবহেলিত মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে একবার নিজেকে সেই অবস্থানে দেখে আতকে উঠতেন, স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অন্তত একবারের জন্যও তাদের কষ্টগুলো ধারণ করতে পারতেন, তাহলে আপনি তাদের জন্য কিছু একটা করার জন্য পাগল।হয়ে ছুটতেন। কিন্তু আপনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে টিভির রিমোর্ট কিংবা নিজের জগতে হারিয়ে যান।

কষ্ট করে দাঁড়িয়ে থাকা বয়স্ক একজন মহিলার জন্য আপনার সিট টা ছেড়ে দেবার মানসিকতা নেই আপনার, কারণ আপনি তার কষ্টটা অনুভব করছে না। বাড়ির কাজে সাহায্যকারী মেয়েটার কষ্টটা আপনার যদি অনুভব করার মানসিকতা থাকতো, তাহলে তার উপর অমন নিষ্টুর আচরণ আপনি করতে পারতেন কি? একবার কি অনুভাব করার চেষ্টা করেছেন যে সেই মেয়েটির অবস্থানে আপনিও থাকতে পারতেন।

সমাজে সার্বিকভাবে যখন সহানুভূতিশীল মানুষের সংখ্যা কমে যায়, তখনই কিন্তু একটা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। কেউ কারো প্রতি আস্থা রাখতে পারেনা। কেউ কারো পরোয়া করেনা এমনকি চরমরূপ বিপদেও মানুষ মানুষকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনা। সবাই নিজের মনের দেয়ালে একটা অদৃশ্য স্বার্থপরতার আচ্ছাদন এটে দিয়েছে যেন!

empatia2

এটা একদিকে যেমন শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটির ফল, অন্যদিকে বাবা মা, সামাজিক বন্ধনগুলো থেকে পাওয়া শিক্ষার অভাবও দায়ী বলে মনে হয়।

আমাদের পারার মুরুব্বি খালা খালুদের আমরা যেভাবে সম্মান করতাম, এখনও করি, সেই সম্মানবোধটা নতুন প্রজন্মের শিশুরা পাচ্ছে কিনা সেটা একটা দেখার বিষয়। আর এখন তো শিশু হত্যাই যেন একটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক ঘটন অঘটনীয় উপাদানে ভরপুর প্রিয় দেশটা একটা কঠিন Transition সময় পার করছে। এই সময়ের বড় বড় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে যদি দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক অংগনের লোকেরা কাজ না শুরু করেন এক্ষুনি, তাহলে পুরো জাতি এক মহা সংকটের মধ্যে পরে যাবে। এর মধ্যে বড় একটা সমস্যা হল, মানুষের মানবিক স্বত্বাটাকে জাগ্রত রাখার শিক্ষাব্যবস্থার অভাব। হোক সেটা আনুষ্ঠানিক কিংবা ঘর থেকে। মানুষের মানবিকতার বিকাশ যদি না হয়, কর্পোরেট পুঁজিবাদ দেশের মানুষকে নিছক ভোগবাদি প্রানীতে রুপান্তরের খেলাটা ভাল ভাবেই খেলবে, যার ফল স্বরুপ ভবিষ্যৎকাল এ ঐ মহিলার মত জ্বলে পুড়ে ছাড়খার হবেন কিন্তু সাহায্যের জন্য কোন মানবিক স্বত্বা এগিয়ে আসার মত কেউ অবশিষ্ট থাকবে বলে মনে হয়না।

Facebook Comments

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.